বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ণ
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ শনিবার (২৭ জুন) পুনরায় শুরু হয়েছে। সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। স্পিকার ব্যারিস্টার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অধিবেশনে বিশেষ ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর এই গঠনমূলক ও ইতিবাচক বক্তব্য শেষে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্য একযোগে টেবিল চাপড়ে তাঁকে স্বাগত ও সমর্থন জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, সেগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল সরকারের প্রতি সব ধরণের গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মূলত একটি আমদানিনির্ভর দেশ; যেখানে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। তৈরি পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বর্তমানে আমাদের প্রধান রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হলেও দেশের স্বার্থে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে এসব অর্থনৈতিক বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি সরাসরি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ওপরও জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর মতে, এতে দেশ ও জনগণের কাছে চুক্তির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা আরও বাড়বে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে বাইরের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব আন্তর্জাতিক চুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদের সার্বিক কার্যকারিতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত এই জাতীয় সংসদ। সংসদকে পাশ কাটিয়ে বা অবজ্ঞা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তিনি দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি টেকসই ও গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একদম শেষ প্রান্তে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সফলতা কামনা করেন এবং সংসদে উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

মন্তব্য করুন