কুষ্টিয়ায় ২০ বছর ধরে বন্ধ সরকারি পশু হাসপাতাল
কাঞ্চন কুমার (কুষ্টিয়া প্রতিনিধি): কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পরানখালি বাজারে অবস্থিত সরকারি পশু হাসপাতালের সাব-সেন্টারটি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ডাক্তার, কর্মচারী ও আসবাবপত্রের অভাবে জরাজীর্ণ এই ভবনে বন্ধ রয়েছে গবাদি পশুর চিকিৎসাসেবা ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সারাবুল বাশার জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলাকার শত শত মানুষ ও খামারিরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একসময়ে এই সাব-সেন্টার থেকে নিয়মিত সেবা পাওয়া গেলেও দীর্ঘদিন ধরে তদারকি না থাকায় এর বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।
এলাকায় সম্প্রতি বেশ কিছু পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম গড়ে ওঠার পাশাপাশি মানুষ শৌখিনভাবেও বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালন করছেন। কিন্তু হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় গবাদি পশু বা পোষা প্রাণী অসুস্থ হলে বিপাকে পড়তে হয় খামারিদের। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ শেখ, ঝন্টু শেখ ও তরিকুল ইসলাম জানান, গবাদি পশু অসুস্থ হলে দূরে ভেড়ামারা সদরে নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাঁরা অবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তারেক হাসান জানান, সরকার ৪৯৫ জন কৃত্রিম প্রজনন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। লোকবল পেলে এবং অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবকাঠামো সংস্কার ও বাউন্ডারি দেয়ালের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, তিনি ইতিমধ্যে পরানখালি প্রজনন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সেখানে কোনো সরকারি কর্মী না থাকলেও একজন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। বসার পরিবেশ ফিরিয়ে এনে কেন্দ্রটি খুব দ্রুত পুনরায় চালুর জোরালো চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এআইএল/সকালবেলা