দেড় শতাব্দী পর সংস্কার হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের সেতু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ণ
দেড় শতাব্দী পর সংস্কার হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের সেতু

মোস্তাকিন হোসেন (পাঁচবিবি-জয়পুরহাট): ব্রিটিশ আমলে ইট, চুন-সুরকি ও ভাতের মাড় দিয়ে নির্মিত জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশের ২৮৩ নম্বর গার্ডার সেতুটি দীর্ঘ ১৪৮ বছর পর পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। নিয়মিত সংস্কারের অভাবে সেতুটির পিলারে ফাটল ধরার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের সময় তীব্র শব্দ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঝাঁকুনির সৃষ্টি হতো। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় চরম ঝুঁকি তৈরি হলে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে আধুনিক আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল।

বুধবার থেকে নতুন সেতুর কাজ চলাকালে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প অস্থায়ী রেললাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন রেলওয়ের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য বর্তমানে অস্থায়ী লাইনে ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল করছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৭৮ সালে নির্মিত এই সেতুটি পাঁচবিবি-হিলি রেলপথের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দীর্ঘ দেড় শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত এই পথ দিয়েই একসময় ঈশ্বরদী থেকে পার্বতীপুর হয়ে বিখ্যাত দার্জিলিং পর্যন্ত মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলো চলত। দীর্ঘদিনের ব্যবহারজনিত ক্ষয়ে সেতুটির পিয়ারের মূল শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরোনো সেতুটির প্রায় ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের জরাজীর্ণ কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তির শক্তিশালী আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নতুন কালভার্ট প্রস্তুত করা হবে। বিকল্প সংযোগ পথ চালু থাকায় নির্মাণকাজ চলাকালে ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হবে না। ৮৫ লাখ টাকার প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষে ওই অংশে রেলের গতি ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়বে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) হাসান আলী জানান, চুন-সুরকিতে গড়া প্রাচীন সেতুটির কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ট্রেন চলাচলে প্রবল কম্পন হতো। ঝুঁকিমুক্ত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতেই কালভার্টটি নতুন করে গড়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর রেলপথে থাকা ১১২টি ছোট-বড় সেতুর মধ্যে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে আধুনিকায়নের মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের পুরোনো রেল পরিকাঠামো সংস্কারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীরা।

এআইএল/সকালবেলা