শ্যামনগরে জেলা প্রশাসকের কাছে এনজিওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
মেহেদী হাসান মারুফ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলায় পিকেএসএফের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাস্তবায়নকারী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’-এর মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের উপেক্ষা করে প্রকল্প পরিচালনার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনের পাশাপাশি এনজিওটিকে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়নে পিকেএসএফের অর্থায়নে পরিচালিত ‘আরএইচএল’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যদের কোনো প্রকার সমন্বয় ছাড়াই এনজিও ‘সাস’ নিজেদের ইচ্ছেমতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত না করে বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম ও আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কৈখালী ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত দরিদ্র ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে তুলনামূলক সুবিধাজনক ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে আগেই ‘ইউএনডিপি’-এর একটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে সুবিধাভোগী নির্বাচনে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় স্থানীয় ইউপির সাথে সমন্বয় করে কাজ করার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হচ্ছে না।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সিরাজুল ইসলাম এনজিও ‘সাস’ কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ইউপির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এনজিওগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ইউপি প্রতিনিধিরা সমন্বয় না করলে প্রকৃত অসহায় মানুষ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কারণ স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সঠিক তথ্য জনপ্রতিনিধিদের কাছেই বেশি থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জিসিএফ, আরএইচএল প্রকল্পের ‘সাস’ শ্যামনগর শাখার সমন্বয়কারী মুন্সী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, পিকেএসএফের নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও নীতিমালা অনুযায়ীই তাঁরা কাজ পরিচালনা করেন। এখানে কোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তিস্বার্থের সুপারিশ রাখার সুযোগ নেই। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা
|