গাজীপুরের শ্রীপুরে নেশাগ্রস্ত ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু
মহিউদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে নেশাগ্রস্ত ছেলের নৃশংস লাঠির আঘাত ও বেধড়ক পিটুনিতে জন্মদাতা বাবা আব্দুল ছামাদের (৬০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক ছেলে আনোয়ার মাদক সেবনের টাকার জন্য কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করেন এবং তাঁর বুকের ওপর উঠে লাথি মারেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) শেষ রাতে অর্থাৎ ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তৈলিহাটী ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ও নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল ছামাদ ওই এলাকার স্থায়ীবাসী মৃত গিয়াসউদ্দিন ডাক্তারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আনোয়ার দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। সোমবার শেষ রাতের দিকে তিনি মাদক কেনার টাকার জন্য তাঁর বাবা আব্দুল ছামাদের কাছে টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার প্রথমে নিজ স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে ঘর থেকে একটি লাঠি এনে বাবা আব্দুল ছামাদের মাথায় প্রচণ্ড গতিতে সজোড়ে আঘাত করেন।
আঘাতে রক্তাত্ব হয়ে বৃদ্ধ ছামাদ মাটিতে পড়ে গেলে পাষণ্ড আনোয়ার তাঁর বুকের ওপর চড়ে বসেন এবং একটার পর একটা লাথি মারতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়ে ছামাদ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে একপর্যায়ে ছামাদের ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার মর্মান্তিকতা স্বীকার করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, “ভোররাতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নেশার টাকার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সাইটালিয়া গ্রামসহ পুরো শ্রীপুর উপজেলা জুড়ে মারাত্মক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুপত্র ছেলের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।