আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর, খোলা আকাশের নিচে শ্রমিক পরিবার

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ণ
আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর, খোলা আকাশের নিচে শ্রমিক পরিবার

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আগুনে বসতঘর পুড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এক শ্রমিক পরিবার। বসতঘর হারিয়ে গত ২০ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। মানবিক সহায়তার জন্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

সরেজমিনে (৫ অক্টোবর) জানা যায়, উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামের দিনমজুর নুরুল ইসলাম খলিফার বসতঘরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৬৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, জমি-জমার দলিল, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তিন দিন আগে তাঁর নাতি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় স্বজনরা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে পাশে এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে খেয়ে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ ধোঁয়া দেখতে পান। দৌড়ে এসে দেখেন ঘর আগুনে জ্বলছে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পুরো ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মোরেলগঞ্জ ও মোংলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রওনা হলেও যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

নুরুল ইসলাম খলিফার স্ত্রী শাহিনুর বেগম ও ছোট ছেলে পারভেজ খলিফা জানান, ঢাকায় একটি চাকরি থেকে প্রাপ্ত শেষ সম্বলটুকু ঘরে জমা রাখা ছিল, যা আগুনে পুড়ে গেছে। বর্তমানে রাতে কোনো মতে একটি ছোট রান্নাঘরে আর দিনে প্রতিবেশীদের আশ্রয়ে দিন কাটছে তাদের। তারা সরকারের কাছে মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল মন্ডল, তোতা মিয়া হাওলাদার ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম খান জানান, পরিবারটি অগ্নিকাণ্ডে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। নতুন করে ঘর তোলার মতো আর্থিক সম্বল তাদের নেই। অবিলম্বে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ জানান, লিখিত আবেদনের বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন এবং সাধ্যমতো সব ধরনের সরকারি সহায়তার চেষ্টা করবেন।

এআইএল/সকালবেলা