সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সীমান্ত পোদ্দার ও সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারের অধীন থাকা অভিযোগকে তোয়াক্কা না করে আসামিদের সুবিধা দিতে আদালতে বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লোহাগাড়ার আধুনগর সরদানি পাড়ার সৌদি প্রবাসী একরামুল হকের স্ত্রী কামরুন্নাহার রাসনা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী জাহেদ হোসেনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, শ্লীলতাহানি, মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা (সিআর ৬৬৪/২৫) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা লোহাগাড়া থানার এসআই সীমান্ত পোদ্দার প্রধান আসামি জাহেদ হোসেনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ ও উপঢৌকন গ্রহণ করে আসামিপক্ষ অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে তিনি মামলার চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টার গুরুতর ধারা (৩৮৫, ৩৫৪, ৩৬৪) বাদ দিয়ে চার ভয়ংকর আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে জামিনযোগ্য হালকা ধারায় গত ২৬ আগস্ট গোপনে সাতকানিয়া সার্কেল বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনটি দেখে সন্দেহ হলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাদী রাসনাকে সাক্ষীদের নিয়ে অফিসে তলব করেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাসনা স্থানীয় অন্তত ১২ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের নিয়ে সার্কেল অফিসে উপস্থিত হয়ে এসআই সীমান্ত পোদ্দারের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন। তবে সার্কেল অফিসের সহকারী ইখতিয়ার লিখিত অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ না করে মোবাইলে ছবি তুলে রাখেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পরমর্শ দেন। একই সাথে সার্কেল অফিসার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এর পরপরই এসআই সীমান্ত পোদ্দার আসামিদের কাছ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা নিয়ে সার্কেল অফিসারকে ম্যানেজ করেন।
পরবর্তীতে গৃহবধূ রাসনা গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, ডিআইজি, আইজিপি, আইজিপি কমপ্লেইন সেল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার অনুলিপি লোহাগাড়া থানা ও সার্কেল অফিসে পাঠানো হয়। এই খবর পেয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর সার্কেল অফিসের সহকারী ইখতিয়ারের মাধ্যমে রাসনাকে ফোন করে পুলিশের উর্ধ্বতন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে চাপ দেওয়া হয়। বিনিময়ে বাদ পড়া ৪ আসামিকে যুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাদী এতে রাজি না হয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেন।
পরবর্তীতে আইজিপি ও ডিআইজি কার্যালয় থেকে বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ সাতকানিয়া সার্কেলে পাঠানো হলেও সার্কেল কর্মকর্তা বাদীর সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, সার্কেল কর্মকর্তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিচারধীন বিষয়কে উপেক্ষা করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘুষের বিনিময়ে তৈরি সাজানো তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করেন।
বর্তমানে এসআই সীমান্ত পোদ্দার অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে বাদী রাসনা ও তাঁর প্রবাসী স্বামীসহ পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও মূল আসামিদের দিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ও এসআই সীমান্ত পোদ্দার পূর্বাশ্রমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রের অনুসারী ছিলেন এবং ইতিপূর্বেও অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেছেন। মামলার মূল আসামি জাহেদ হোসেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বলয় কাজে লাগিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দিতে অর্থ ঢালছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এআইএল/সকালবেলা