কালিয়াকৈরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
ফজলে রাব্বি, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালেও রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ১০ থেকে ১২ জন করে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও গত এক সপ্তাহে অন্তত ৭০ থেকে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কালিয়াকৈর একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। গ্রামাঞ্চলের তুলনায় কালিয়াকৈর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ও রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের চিরাচরিত উপসর্গের পাশাপাশি এবার অনেক রোগী বিপজ্জনক ‘শক সিন্ড্রোম’ বা জটিল লক্ষণ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ রবিবার সরেজমিন কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর ও ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে শুধু এই হাসপাতালেই মোট ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৫ জন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থান ও নিচু জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা এবং সময়মতো মশার ওষুধ ছিটানো না হওয়ায় নর্দমাগুলোতে এডিস মশার বংশবিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোগীদের উপসর্গ সম্পর্কে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ রোগী প্রচণ্ড জ্বর, তীব্র মাথা ব্যথা, সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এর পাশাপাশি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ‘শক সিন্ড্রোম’ যেমন—হঠাৎ রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া (লো প্রেশার) এবং ডায়রিয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলে তাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসছে।
পরিস্থিতির বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন গণমাধ্যমকে জানান, “গত মাসের তুলনায় চলতি অক্টোবর মাসে কালিয়াকৈরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। তবে আমাদের হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এড়াতে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা শুরু করাই গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
দ্রুত পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগে মশক নিধন অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।