কালীগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীর গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীর গাছ কাটার অভিযোগ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে জমি বিরোধের জেরে কেটে ফেলা প্রতিবেশীর মূল্যবান গাছগাছালির ধ্বংসাবশেষ (ফাইল ছবি)।

শেখ রনদ সিমান্ত, বিশেষ প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক বসতভিটায় প্রবেশ করে মূল্যবান গাছগাছালি কেটে ফেলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী গৃহস্থ কালীগঞ্জ থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) দুপুরে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর (দুল্ল্যার বাজার) এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনশ্বর এলাকার বাসিন্দা একরামুল হকের সাথে একই এলাকার এরাজুল ইসলামের জমিজমা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৭ জুলাই দুপুরে এরাজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একরামুল হকের বসতভিটায় প্রবেশ করেন। ওনারা সেখানে থাকা ফলন্ত সুপারি গাছ, কাঁঠালগাছসহ একাধিক মূল্যবান ও ঔষধি গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেন।

ভুক্তভোগী একরামুল হকের দাবি, আসামিরা যখন ওনার রোপণ করা মূল্যবান গাছগুলো কাটছিল, তখন তিনি সশরীরে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওনাকে ও ওনার পরিবারকে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে ওনার চিৎকার ও শোরগোলে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। অনুসন্ধানে জানা গেছে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা সম্পর্কে আপন সহোদর (ভাই) এবং দীর্ঘদিন ধরে ওনাদের মধ্যে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকেই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওনারা আপস করতে ব্যর্থ হলে, দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য করুন