পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করলো স্বামী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা  করলো স্বামী
জান্নাতুল ইসলাম মাইশা

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জান্নাতুল ইসলাম মাইশা (২০) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজন মুন্সীকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুল ইসলাম মাইশা প্রতিবেশী জেলা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী এলাকার হাবিবুর রহমান সেজালের কন্যা। আর অভিযুক্ত স্বামী সুজন মুন্সী রাজৈরের কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের আব্দুর রব মুন্সীর ছেলে ও একজন সৌদি প্রবাসী।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি প্রবাসী সুজন মুন্সীর সঙ্গে মাইশার পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই সুজনের বিভিন্ন পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি চলে আসছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার মাইশাকে শারীরিক নির্যাতন করে স্বামী।

অভিযোগ রয়েছে, বুধবার বিকেলে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রী মাইশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী সুজন। পরবর্তীতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং পরে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে নিহতের পরিবারকে আত্মহত্যার কথা বলে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং মাইশার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের গুরুতর চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাজৈর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামী সুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”