গণধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ন্যায়বিচারের আকুতি পরিবারের
মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অস্ত্র দেখিয়ে গণধর্ষণ ও গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কিশোরীটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী তিন তরুণের বিরুদ্ধে এই পৈশাচিক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর অসহায় পরিবার।
নিপীড়নের শিকার কিশোরী উপজেলার একটি অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী, বড় বোন স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং মা বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবুর্চির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন কাজের তাগিদে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগ কাজে লাগায় প্রতিবেশী তাজুল ইসলামের ছেলে ইসমম (১৮)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে কিশোরীর গলায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে প্রথম তাকে ধর্ষণ করে ইসমম এবং সেই দৃশ্য গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইসমম একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে। একই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে ইসমমের দুই বন্ধু মারুফ (১৯) ও অহিদুলও (১৮) তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক অবয়বে পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগীর বড় বোন বলেন, "পেটের তাগিদে আমি আর মা দিনে বাইরে কাজ করি। ঘর খালি থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী যুবক আমার বোনের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ধর্ষণের পর ভিডিও রেখেছিল। পরে সেই ভয় দেখিয়ে আরও দুইজন নির্যাতন করেছে। আমরা গরিব মানুষ বলে কি বিচার পাব না? জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।"
কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে ডাক্তারের কাছে নিলে জানতে পারি সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভয়ে এতদিন মুখ খোলেনি, এখন ইসমম, মারুফ ও অহিদুলের নাম বলেছে। আমরা এই নৃশংস অপরাধের বিচার চাই।"
এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|