রানার গতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক:দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে সুদীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফরে এসেছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামীকাল মঙ্গলবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে তিন ম্যাচের এই বহুল প্রতীক্ষিত ওয়ানডে সিরিজ। হাইভোল্টেজ এই সিরিজটিকে সামনে রেখে আজ সোমবার মিরপুরে অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন দুই দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে বাংলাদেশ দলের তরুণ ও উদীয়মান পেস সেনসেশন নাহিদ রানাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত ও সতর্ক মনে হলো অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস ইংলিসকে। টাইগারের এই নতুন গতি তারকার বোলিং সামলানো যে তাঁদের জন্য এবার বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন অজি দলনেতা।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলার মাঠ, জাতীয় ক্রিকেট দল ট্র্যাকিং ও সিরিজ প্রিভিউ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অলরাউন্ডার সমীকরণ, টিম কম্বিনেশন ও পিচ কন্ডিশন ফাতোদা উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ও রণকৌশল বিস্তারিত তুলে করা হলো।
বর্তমানে বাংলাদেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এবং উন্মাদনা চলছে নাহিদ রানাকে নিয়ে। গত মার্চ মাসে এই মিরপুরের মাটিতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এরপরের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সমান ৮টি উইকেট শিকার করে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য সিরিজ) নির্বাচিত হন এই তরুণ পেসার। স্বাভাবিকভাবেই নাহিদ যে এবার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন, সেটি বেশ ভালোভাবেই আঁচ করতে পেরেছেন অজি অধিনায়ক ইংলিস।
নাহিদ রানার বোলিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে জস ইংলিস বলেন, “আমি যে খুব বেশি তার বোলিং লাইভ দেখেছি, তা নয়। কিন্তু যতটুকু ফুটেজ বা ক্লিপিংস দেখেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে সে খুবই চমৎকার একজন বোলার এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একজন ক্রিকেটার। তাঁর শারীরিক উচ্চতা (লম্বা গড়ন) এবং সেই সাথে অনেক জোরে বল করতে পারার যে কম্বিনেশন, তা যেকোনো কন্ডিশনেই দারুণ কার্যকর। আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য তাকে সামলানো এবং কন্ডিশন রিড করা বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।”
শুধু পেস আক্রমণই নয়, বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘বিগ ব্যাশ’-এর সর্বশেষ আসরে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন রিশাদ, যেখানে ১২ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বিগ ব্যাশে রিশাদের সঙ্গে ও বিপক্ষে খেলার সেই অভিজ্ঞতাকে এই সিরিজে নিজেদের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজে লাগাতে চায় অস্ট্রেলিয়া দল।
রিশাদ প্রসঙ্গে অজি অধিনায়ক বলেন, “সে আসলেই খুব বৈচিত্র্যময় ও ভালো একজন লেগ স্পেনার। যেহেতু সে আমাদের বিগ ব্যাশে খেলেছে, তাই আমাদের স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার তাকে খুব কাছ থেকে ও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের বর্তমান কোচিং স্টাফে থাকা ম্যাথু ওয়েড এবং দলের প্রধান পেসার নাথান এলিস—তারা দুজনেই হোবার্ট হারিকেন্সে রিশাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছে এবং একসাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছে। তাই রিশাদের বোলিং বৈচিত্র্য ও দুর্বলতা নিয়ে আমাদের টিম মিটিংয়ে যে বিশেষ আলোচনা ও পরিকল্পনা হবে, তা একদম নিশ্চিত।” ঘরের মাঠে টাইগারের এই পেস ও স্পিনের যৌথ আক্রমণ রুখে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া কেমন শুরু করতে পারে, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
জান্নাত সকালবেলা