অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ৪ বছর পর ফেরা মোসাদ্দেকের ভূমিকা জানালেন মিরাজ
ক্রীড়া প্রতিবেদক : একটা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেললেও মনে হচ্ছিল অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জন্য হয়তো জাতীয় দলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন তো একসময় বলেই দিয়েছিলেন, যত দিন মেহেদী হাসান মিরাজ দলে আছেন তত দিন জাতীয় দলে সুযোগ নেই মোসাদ্দেকের। যদিও এমন মন্তব্যের জন্য পরবর্তীতে মোসাদ্দেকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক এই প্রধান নির্বাচক। তবে সব সংশয় ও দীর্ঘ ৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচক কমিটি মোসাদ্দেককে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনেছে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজের ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলার মাঠ, জাতীয় ক্রিকেট দল ট্র্যাকিং ও সিরিজ প্রিভিউ’ এবং ‘ঘরোয়া ক্রিকেট পারফরম্যান্স, অলরাউন্ডার সমীকরণ ও টিম কম্বিনেশন ফাতোদা উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মোসাদ্দেকের ফেরা এবং দলে তাঁর ভূমিকা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বর্তমানে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে একই ঘরানার এবং একই পজিশনের অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক দলে ফেরায় দুজনের একসঙ্গে একাদশে থাকা নিয়ে ক্রিকেট মহলে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে আগামীকাল মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া সিরিজপূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ জানালেন, তিনি বিষয়টিকে মোটেও বড় কোনো ইস্যু বা জটিলতা হিসেবে দেখছেন না।
মিরাজ বলেন, “আমি আর মোসাদ্দেক একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেক দিন ক্রিকেট খেলেছি। আপনারা যদি ইতিহাস দেখেন, ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা দুজনে একসঙ্গে একাদশে খেলেছি। আমার মনে হয় না এটি কোনো আলাদা সমস্যা তৈরি করবে। মোসাদ্দেক দলে তার নিজস্ব ভূমিকা রাখবে, আর আমি আমার ভূমিকা পালন করব।”
২০১৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেনের এবং এর ঠিক এক বছর পর ২০১৭ সালে ওয়ানডে ক্যাপ পান মিরাজ। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মোসাদ্দেক ৪৩টি ওয়ানডে খেলেছেন এবং মিরাজ খেলেছেন ১২০টি। দুজনই মূলত ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করার পাশাপাশি অফ স্পিন বোলিং করে থাকেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত এই দুজন একসঙ্গে একাদশে থেকে ২৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন।
দুজনের খেলার মূল পার্থক্য ও কৌশলগত দিক তুলে ধরে অধিনায়ক মিরাজ ব্যাখ্যা করেন, “মোসাদ্দেক মূলত একজন প্রপার ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আর আমি দলে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলি। ফলে আমাদের দুজনের ভূমিকা পুরোপুরি আলাদা। আমার কাছে মনে হয় ও যদি নিজের চেনা ছন্দে পারফর্ম করতে পারে, তবে এটি অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য এবং সামগ্রিকভাবে দলের জন্য বড় সাহায্য হবে। আমরা সবাই ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলটাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছি।”
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) চলতি মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীর হয়ে ব্যাট-বলে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন মোসাদ্দেক। লিগে মাত্র ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ দুর্দান্ত গড় এবং ১৩৩.৩৩ ঝোড়ো স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ৩৩৬ রান। শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও দলের প্রয়োজনে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ১২টি উইকেট। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই ধারাবাহিক ও অতিমানবীয় পারফরম্যান্সই মূলত ৪ বছর পর তাঁর জন্য জাতীয় দলের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে মোসাদ্দেককে নিয়ে দারুণ আশাবাদী মিরাজ বলেন, “ঘরোয়া ক্রিকেটে ও অনেক বছর ধরে পারফর্ম করছে এবং খুব পরিপক্ব ক্রিকেট খেলছে। আমার কাছে মনে হয় জাতীয় দলে ওকে ফিরিয়ে নেওয়ার এটাই সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত সময়। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমরা ওর জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা বা পজিশনটা চিন্তা করেছি, সেই জায়গায় যদি ও নিজের সেরাটা দিতে পারে, তবে দলের জন্য তা অনেক বড় শক্তির কারণ হবে।” বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
জান্নাত সকালবেলা