বিশ্বকাপ উদ্বোধনের দিন মিয়ানমারে খেলতে গেলেন ঋতুপর্ণা চাকমা
আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল, ক্লাব ট্রান্সফার ও নারী দলগত পারফরম্যান্স খতিয়ান’ এবং ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস প্রস্তুতি ও প্লেয়ার্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ঋতুপর্ণার এই নতুন অধ্যায়ের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
বাফুফে ও ক্লাব সূত্র জানায়, গত বছর মিয়ানমারের মাটিতেই অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমার নারী দলকে বিদায় করে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল প্রথমবারের মতো এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘এশিয়া কাপ’-এ খেলার টিকিট পেয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জয়সূচক দুটি গোলই একাই করেছিলেন গতিময় উইঙ্গার ঋতুপর্ণা। তার সেই চোখধাঁধানো ও শৈল্পিক পারফরম্যান্সের পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের একাধিক শীর্ষ সারির ক্লাব থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব পান তিনি। তবে সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের ঘরোয়া লিগেই খেলার সিদ্ধান্ত নেন এই তারকা। যদিও আন্তর্জাতিক স্তরে মিয়ানমার বাংলাদেশের কাছে হেরে গেছে, তবে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নারী ফুটবল লিগের পেশাদারিত্ব ও মান বাংলাদেশের ঘরোয়া কাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ।
সম্প্রতি সাফ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক মিশন শেষ করার পর জাতীয় দলের নারী ফুটবলাররা বর্তমানে বাফুফের পক্ষ থেকে ২ সপ্তাহের অফিশিয়াল ছুটি কাটাচ্ছেন। এই অবসরে দলটির ব্রিটিশ প্রধান কোচ পিটার বাটলারও নিজ দেশ ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গেছেন। বাফুফের সূচি অনুযায়ী, আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে আবারও নারী জাতীয় ফুটবল দলের আবাসিক ক্যাম্প পুরোদমে শুরু হবে। কারণ আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মাঠে গড়াবে ‘এশিয়ান গেমস’, যা ঋতুপর্ণা-সাবিনাদের পরবর্তী বড় আন্তর্জাতিক মিশন। ঋতুপর্ণা আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত মিয়ানমারের ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাবেন, যার ফলে বিদেশি লিগের এই কঠিন অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসে তার পারফরম্যান্সকে আরও ধারালো করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
ঋতুপর্ণার মিয়ানমার যাত্রার পাশাপাশি বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য আরেকটি বড় খবর হলো ভুটানের নারী ফুটবল লিগ। দেশের নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক ও গোলমেশিন সাবিনা খাতুন এবং নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন ইতিমধ্যেই ভুটানের লিগে খেলার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া তরুণ ফরোয়ার্ড সুমাইয়ারও খুব শীঘ্রই ভুটানের একটি ক্লাবে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও ভুটানের ঘরোয়া নারী লিগে বাংলাদেশের ১০ জনেরও বেশি ফুটবলার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ভাড়ায় খেলে লিগ মাতিয়ে এসেছিলেন। দেশের নারী ফুটবলারদের এই আন্তর্জাতিক চাহিদা দেশের ফুটবলের সুন্দর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা