সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য ডেস্ক : সিলেট বিভাগে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব। দিন দিন পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক ও জটিল রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে এই মারাত্মক রোগের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫টি নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে, যা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৪ জন সন্দেহভাজন শিশু রোগী।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫টি শিশুর মধ্যে দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দুজন বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং বাকি ১টি শিশু সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ২৮৩ জন শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারে নতুন করে কোনো রোগীর শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত (পজিটিভ) পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক মূল পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজ ২২ মে পর্যন্ত পুরো সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ১৫৮ জন ‘ল্যাব-নিশ্চিত’ (Lab-confirmed) হামের রোগী সরকারিভাবে শনাক্ত হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া মোট ৪৭ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন শিশু সুনির্দিষ্টভাবে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী ছিল। আর বাকি ৪৩ জন শিশুর শরীরে হামের শতভাগ উপসর্গ বা লক্ষণ থাকলেও ল্যাবরেটরি থেকে তাদের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদন এখনো এসে পৌঁছায়নি।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা ও জীবন রক্ষা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০টি এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি বিশেষায়িত আইসিইউ (ICU) বেড স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালন পর্ষদ আশ্বস্ত করেছে যে, আগামী দিনগুলোতে যদি রোগীর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিইউ ও সাধারণ বেডের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। চিকিৎসকেরা এই সময়ে শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যেকোনো জ্বর বা শরীরে গুটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

জান্নাত সকালাবেলা