দুই দশকেও চালু হয়নি শিবগঞ্জের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল
ওয়াফিক শিপলু (বগুড়া প্রতিনিধি): নির্মাণের দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়াহাট ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। বহির্বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স দিয়ে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চললেও এখনো চালু হয়নি জরুরি ও অন্তর্বিভাগের কার্যক্রম। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশের অন্তত চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। সামান্য অসুস্থতা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনেও তাঁদের ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে।
২০০৫ সালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়াহাটে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অবকাঠামো নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজে প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষেই ঝুলছে তালা। নেই পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে ভবন থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা।
বর্তমানে বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন এবং তাঁর সঙ্গে একজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে জরুরি ও অন্তর্বিভাগ চালু করা যায়নি। অথচ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চার ইউনিয়নের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যেত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়ে এলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি হাসপাতাল এভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। দ্রুত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে একই সময়ে উদ্বোধন হওয়া বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ও নন্দীগ্রামের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেও এখনো অন্তর্বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম দ্রুত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণেই হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এআইএল/সকালবেলা