আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের জেরে ১৭ পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি
গাজীপুরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলেও সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রীতিকর ঘটনা ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আশুলিয়ার ১৭টি শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক কারখানায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে আশুলিয়ার নরসিংপুর, নিশ্চিন্তপুর, সরকার মার্কেট এবং এর সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকার গার্মেন্টসগুলোতে সকালে শ্রমিকেরা উপস্থিত হওয়ার পর ছুটি ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
ছুটি ঘোষণা করা ১৭টি পোশাক কারখানার তালিকায় রয়েছে— হা-মীম গ্রুপের ‘বড় হামীম টিসল’, ‘টিসল ৪ বিঘা’, ‘এডিএল’ ও ‘এনসিএল’; শারমিন গ্রুপ, অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ গার্মেন্টস, আল-মুসলিম, টাওজার লাইন লিমিটেড, নীট এশিয়া লিমিটেড, ভিনটেজ গার্মেন্টস, মেডলার গার্মেন্টস, দি রোজ গার্মেন্টস, এনভয় গার্মেন্টস, এ এম ডিজাইন লিমিটেড এবং বান্দ ডিজাইন লিমিটেড।
ন্যূনতম মাসিক মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা, ফতুল্লা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এর ধারাবাহিকতায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিবেচনায় ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে নতুন বোর্ডের ঐতিহাসিক প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকদের বর্ধিত বেতন প্রদানের বিষয়ে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতভাবে একমত হন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পূর্বে পাঁচ বছর পর পর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান থাকলেও সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই সময়সীমা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতেই দ্রুত সরকার নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করবে।