হাটহাজারীতে আলেমকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি হাইআতুল উলয়ার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
হাটহাজারীতে আলেমকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি হাইআতুল উলয়ার

সকালবেলা অনলাইন: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কাল্পনিক অভিযোগে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় থানা পুলিশের বিষদ তদন্তে এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িতরা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

আল-হাইআতুল উলযার অফিস ব্যবস্থাপক (মাওলানা) মু: অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে ওই মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে ঘিরে মানহানিকর ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ফুটেজে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী ও পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন আনসার সদস্যকে জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, হাটহাজারী থানা পুলিশের গঠিত তদন্তকারী দল ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গত ১১ অক্টোবর ঘটা কথিত এই ঘটনার সরেজমিনে সত্যতা যাচাই করে। ঘটনার তিন দিন পর ১৪ অক্টোবর পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নিরপেক্ষ তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এ ধরনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজও বিদ্যমান নেই।

ঘটনায় জড়িত এক আনসার সদস্য পুলিশের তদন্তকারী দল ও সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেন যে, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তবে এক স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের সেখানে নিয়ে এসে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছিলেন। আনসার সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং সন্ধ্যার পর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ভুলবশত ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ভিডিও ধারণ ও অপপ্রচারে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্য ভিডিও বক্তব্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

আল-হাইআতুল উলয়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া একজন সম্মানিত আলেম ও একজন বয়োবৃদ্ধ নারীকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ ও তা নেটে ছড়ানো সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ ও ইসলামি শরিয়তবিরোধী। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ওই মাওলানা, তাঁর শাশুড়ি ও তাঁদের পরিবার যে মানসিক যন্ত্রণা এবং সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তার সব দায়ভার ভিডিও ধারণকারী ও প্রচারকারীদের বহন করতে হবে। একই সঙ্গে যাঁরা যাচাই ছাড়া ভিডিওটি শেয়ার করেছেন বা ট্রোল করে চরিত্রহনন করেছেন, তাঁদেরকে অবিলম্বে নিজ নিজ আইডি থেকে পোস্ট মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয় আলেম সমাজ ও আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন বোর্ডসমূহের থানা কমিটিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা যাচাই করে সঠিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ইন্টারনেটের সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অবমাননাকর ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও ধারণ ও অপপ্রচারে সরাসরি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়িত্বে গাফিলতি করা সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোকে তদন্তের মূল ফলাফল ও সংশোধনী সমান গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া কাউকে, বিশেষ করে আলেম সমাজ ও নারীদের হেনস্তা বা চরিত্রহনন রোধে প্রশাসনকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ক্লিপ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করা, শেয়ার দেওয়া কিংবা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।

এআইএল/সকালবেলা