বিধি মোতাবেক চলায় শিক্ষিকার নামে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
বিধি মোতাবেক চলায় শিক্ষিকার নামে অপপ্রচারের অভিযোগ

পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ১৬১ নম্বর কলসী ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা করায় এক সহকারী শিক্ষিকার নামে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

অপপ্রচারের শিকার হওয়া ওই সহকারী শিক্ষিকার নাম মিতু রহমান। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে সুনামের সাথে কর্মরত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষিকা মিতু রহমান অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করি, কখনো দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা করি না। বিদ্যালয়টি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করায় একটি মহলের তা পছন্দ হচ্ছে না। এ কারণেই আমার নামে বানোয়াট ও মনগড়া অভিযোগ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি একটি নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রচার করে আমার মানহানি করার চেষ্টা হয়েছে। আমি অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

সরজমিনে জানা গেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, মিতু ম্যাডামের জনপ্রিয়তা ও স্কুলে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রাখায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তারা জানান, ৪র্থ শ্রেণীর নুসরাত ফারিয়া নামের এক ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ থেকে টাকা ও কলম চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম, অসদাচরণ ও অনৈতিক কথাবার্তা বলে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করছিল। মিতু ম্যাডামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ওই ছাত্রীকে বুঝিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে অভিভাবকদের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর মাধ্যমে খবর পাঠান। কিন্তু নুসরাত ফারিয়ার বাবা-মা খবর নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহারের পাশাপাশি গালিগালাজ করে। এতে শিক্ষার্থীরা নুসরাত ফারিয়ার সাথে কথাবার্তা ও শ্রেণীকক্ষে তার পাশে বসা বন্ধ করে দিলে সে সঙ্গহীনতায় পড়ে ও স্কুলে অনিয়মিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাজু মোল্লা স্কুল থেকে টিসি নিয়ে তাকে ৯৯ নম্বর ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, কয়েক বছর আগে ৯৯ নম্বর ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন বদরুল আলমের (বদিয়ার) ভাতিজা সুলতান সর্দার ১৬১ নম্বর স্কুলে থাকাকালে বেয়াদবি করায় মিতু রহমান তাকে শাসন করেছিলেন। তৎকালীন ঘটনা নিয়ে কোন্দল হলেও পরে সুরাহা হয়। কিন্তু বদরুল খুশি হতে না পেরে নুসরাত ফারিয়ার স্কুল ত্যাগের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাজু মোল্লাকে ফুঁসলিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে বানোয়াট অভিযোগ করিয়েছে।

১৬১ নম্বর কলসী ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন জানান, “নুসরাত ফারিয়ার বাবা বাচ্চার অসুস্থতা ও বিভিন্ন অসুবিধার কথা বলে টিসি নিতে আসেন। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি জোরাজুরি করায় টিসি দিতে বাধ্য হই। টিসি নেওয়ার সময় তিনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। পরে অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি তাঁর মেয়ে নাকি শিক্ষিকার নির্যাতনে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আমার জানা মতে, এ ধরনের কোনো অনিয়ম আমাদের বিদ্যালয়ে ঘটেনি এবং কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করেন না।”

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সেলিম হোসেন বলেন, “আমার মেয়েও এই স্কুলের ছাত্রী। শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো অনিয়ম দেখিনি। মেয়ের কাছে গোপনে মিতু ম্যাডামের আচরণ সম্পর্কে জেনেছি, তিনি নিয়মে একটু কড়াকড়ি করলেও শিক্ষার্থীদের কোনো শারীরিক নির্যাতন করেন না।”

সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) পলাশ সর্দার বলেন, “শিক্ষক মিতু রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। এটি অপপ্রচার নাকি সত্য তা তদন্ত ছাড়া বলা কঠিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, না পাওয়া গেলে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে।”

এআইএল/সকালবেলা