ছাত্রীদের অভিযোগে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা: অনশনের পর শিক্ষক আটক
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করে গণ-অনশনে বসে ছাত্রীরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর প্রস্তাবে সম্মত না হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ছাত্রীরা তাঁকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর তারা সব ধরনের পাঠদান বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণ-অনশন শুরু করে।
ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করে।
এ ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এআইএল/সকালবেলা