বিশ্ববাজারে তেলের দামের দরপতন
অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইরান আলোচনায় দীর্ঘায়িত অচলাবস্থা বিরাজ করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের মুখে পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তেলের প্রবৃদ্ধির চাহিদার পূর্বাভাস একযোগে কমিয়ে আনায় বিশ্ববাজারে এই মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২৬) এশিয়ার আন্তর্জাতিক লেনদেন বাজারে বেঞ্চমার্ক 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল বেঞ্চমার্ক 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' (WTI)-এর দর ০.৬০ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৮২ দশমিক ৭৭ ডলারে।
হরমুজ প্রণালি টানা অবরুদ্ধ থাকা এবং সেখানে নতুন করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে জ্বালানি চাহিদার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আইইএ (IEA) তাদের আগস্ট মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাজারমূল্য অস্বাভাবিক উচ্চতায় থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ওপেকের (OPEC) মূল্যায়ন অনুযায়ী, চাহিদার যে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক আশা ছিল, তা থেকে সংশোধন করে দৈনিক ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।
চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের যোগান উদ্বৃত্ত বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) সর্বশেষ তথ্য। গত সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্যিক তেলের মজুত এক লাফে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে অপরিশোধিত তেল আমদানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়াই মার্কিন বাজারে উদ্বৃত্ত তৈরির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার ধাক্কা সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল সূচকে।
|