২৭ বছর পর রিমেক হচ্ছে ‘হঠাৎ বৃষ্টি
বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া অন্যতম সফল, ব্যবসাসফল ও চিরসবুজ রোমান্টিক সিনেমা হলো ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ (Hotat Brishti)। দুই বাংলার দর্শকদের আবেগের সাথে জড়িয়ে থাকা এই ক্ল্যাসিক সিনেমাটি মুক্তির দীর্ঘ ২৭ বছর পার করে এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এবং আধুনিক মেকওভার নিয়ে রুপালী পর্দায় ফিরে আসছে। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ নামে নির্মিত এই অফিশিয়াল রিমেক চলচ্চিত্রে প্রধান দুই চরিত্রে দেখা যাবে এই সময়ের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দুই নবীন অভিনয়শিল্পীকে। বর্তমান যুগের দর্শকদের রুচি ও আধুনিক সিনেমাটোগ্রাফির কথা মাথায় রেখে সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টা ২১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার ও বিনোদন’ এবং ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ, যৌথ প্রযোজনা, সেন্সর ও সার্টিফিকেশন বোর্ড আপডেট ও সিনেমা হলের বাজার পর্যবেক্ষণ উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নতুন সংস্করণের নেপথ্য গল্প এবং কাস্টিং খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তরুণ ও প্রতিভাবান নির্মাতা কামরুজ্জামান। পরিচালক কামরুজ্জামান সিনেমাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য শেয়ার করে জানিয়েছেন যে, প্রায় তিন মাস আগেই সিনেমার সমস্ত শুটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শেষ করা হয়েছে। আনন্দের সংবাদ হলো, সিনেমাটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের (পূর্বতন সেন্সর বোর্ড) চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে প্রদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ বিনাবাধায় ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স লাভ করেছে। এখন যদি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ঠিক থাকে, তবে আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘দুর্গাপূজা ২০২৬’ (Durga Puja)-কে কেন্দ্র করে ছবিটি দেশব্যাপী একযোগে মহাসমারোহে মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একটি যুগান্তকারী এবং কালজয়ী সিনেমার রিমেক করা যে কতটা কঠিন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন পরিচালক। কামরুজ্জামান তাঁর অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “বাসু চ্যাটার্জির মতো একজন কিংবদন্তি পরিচালকের মাস্টারপিস ছবি নতুন করে রিমেক করাটা যেকোনো পরিচালকের জন্যই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমরা মূল গল্পের চিরন্তন আবেগকে অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রেক্ষাপট ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কাজটা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি, এখন বাকি মূল্যায়ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখার পর দেশের সাধারণ দর্শক ও সমালোচকেরা করবেন।”
১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মূল ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নির্মাতা বাসু চ্যাটার্জি। সেই চলচ্চিত্রে ‘অজিত’ ও ‘দীপা’ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দুই বাংলায় রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ এবং ওপার বাংলার অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। নতুন রিমেক সংস্করণে ফেরদৌসের সেই আইকনিক চরিত্রে রূপদান করেছেন তরুণ অভিনেতা আরিয়ান সারোয়ার (Ariyan Sarwar) এবং প্রিয়াঙ্কার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাদিফা নারমিন (Radifa Narmin)।
এটি অভিনেতা আরিয়ান সারোয়ারের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র হলেও, কোনো বাণিজ্যিক সিনেমায় প্রধান বা লিড হিরো হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম কাজ। চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আরিয়ান বলেন, “শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার আগে আমি মূল ছবিটি একাধিকবার খুব মন দিয়ে দেখেছি। ফেরদৌস ভাইয়ের অভিনয়কে আমি অনুসরণ করেছি, তবে কোনোভাবেই অন্ধ অনুকরণ করার চেষ্টা করিনি। পরিচালকের চমৎকার নির্দেশনা এবং আমার নিজস্ব অভিনয় শৈলী দিয়ে চরিত্রটিকে পর্দায় জীবন্ত করার চেষ্টা করেছি। অভিনয় জীবনের শুরুতেই এমন একটা ঐতিহাসিক চরিত্রে কাজ করতে পারা আমার জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি।”
নতুন এই চলচ্চিত্রে আরিয়ান ও রাদিফা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা ঝুনা চৌধুরীসহ আরও অনেকে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের মূল ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল বাংলাদেশের আশীর্বাদ চলচ্চিত্র এবং ভারতের গ্রামকো ফিল্মস। আর ২৭ বছর পরের এই নতুন রিমেক ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশের দুই শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘আশীর্বাদ চলচ্চিত্র’ এবং ‘ইমপ্রেস টেলিফিল্ম’। সিনেমাটি মুক্তির খবরে ওল্ড-স্কুল সিনেমা প্রেমীদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|