ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনটিকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ ঘোষণা আর্জেন্টিনার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনটিকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ ঘোষণা আর্জেন্টিনার
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্ত

ক্রীড়া ডেস্ক: সদ্যসমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর ও নাটকিয় এক জয় কুড়িয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের সেই ২-১ ব্যবধানের মহামূল্যবান জয় লিওনেল মেসির দলকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার মুকুট পরার খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।

যদিও ফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে হেরে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় আলবিসেলেস্তেদের, তবুও ইংলিশ-বধের সেই স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর দিনটিকে চিরস্থায়ী রূপ দেওয়ার বড় উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সেই সেমিফাইনাল জয়ের মাস পেরোনোর আগেই ১৫ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তারা। এখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটিকে পুরো আর্জেন্টিনাজুড়ে বিশেষভাবে উদযাপন করা হবে।

বুধবার অনুষ্ঠিত এএফএ’র নির্বাহী কমিটির শীর্ষ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পরবর্তীতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা জানায়, “লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা শুরুতে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ দুটি গোলে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দল জয় ছিনিয়ে আনে। সেই ঐতিহাসিক জয় পুরো আর্জেন্টিনা জাতিকে তীব্র আনন্দাশ্রুতে ভাসিয়েছিল এবং দেশটির লাখো মানুষ রাজপথে নেমে একযোগে জয়োল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।”

গত ১৫ জুলাইয়ের সেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে প্রথম দিকে গোল হজম করলেও শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আর্জেন্টিনা।

তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পরপরই মাঠের বাইরে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যা জল গড়িয়ে বর্তমানে ফিফা তদন্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে। ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ব্যানার মাঠে ছুড়ে দেন এক আর্জেন্টাইন সমর্থক। পরবর্তীতে মাঠ থেকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো সেটি কুড়িয়ে নেন এবং খেলোয়াড়রা জয়ের আনন্দের মাঝে তা উঁচিয়ে ধরে উল্লাস প্রকাশ করেন। সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

উল্লেখযোগ্য যে, দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপের কর্তৃত্ব নিয়ে ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তার অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারান, যেখানে শেষ পর্যন্ত জয় পায় যুক্তরাজ্য। এই রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে ব্যানার কাণ্ড নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানায় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

মন্তব্য করুন