নাবিলার বনলতায় মুগ্ধ সাদিয়া আয়মান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ
নাবিলার বনলতায় মুগ্ধ সাদিয়া আয়মান

নিজস্ব প্রতিবেদক:শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশের অমর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাঙালির হৃদয়ে এক চিরন্তন আবেগের নাম। আর সেই কালজয়ী কবিতা অবলম্বনে এবার বড় পর্দার জন্য ভিন্নধর্মী এক ক্যানভাস তৈরি করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা উজ্জ্বল। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ছোট পর্দার এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সিনেমাটি দেখার পর নিজের ভেতরের মুগ্ধতা ও ভালো লাগা আর চেপে রাখতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটির প্রতিটি কাস্টিং ও কস্টিউমের প্রশংসা করার পাশাপাশি এর পেছনের দীর্ঘ আট বছরের ত্যাগের গল্প ও কলাকুশলীদের অভিনয়ের দারুণ মূল্যায়ন করেছেন এই অভিনেত্রী।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, মুভি ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ‘বনলতা’ সিনেমা নিয়ে সাদিয়া আয়মানের মুগ্ধতার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

সিনেমাটি দেখার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সাদিয়া আয়মান সাংবাদিকদের বলেন, বনলতা সিনেমাটি এত দারুণ লেগেছে যে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি! সিনেমা শেষ করে আমি সরাসরি উজ্জ্বল ভাইকে দেখে জিজ্ঞেস করেছি, ভাইয়া, আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন—এই সিনেমাটার চিত্রনাট্য লিখতে এবং জীবনানন্দ দাশের এতগুলো কবিতা ও তাঁর জীবন নিয়ে রিসার্চ করতে আপনার কতদিন সময় লেগেছে? সে সময় পরিচালক আমাকে জানান যে এর পেছনে তাঁর দীর্ঘ আট বছরের একনিষ্ঠ সময় দিতে হয়েছে। আট বছরের কঠোর সাধনা! মানে, এমন গভীর সাধনার পরেই কেবল এরকম একটি নান্দনিক ছবি আমরা বড় পর্দায় দেখতে পেরেছি। দর্শকদের একজন হিসেবে আমার মনে হচ্ছে যে, এই সিনেমাটি দেখতে পাওয়াটাই আমার বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট বা প্রাপ্তি।

সিনেমার মূল গল্প ও চরিত্রের সাথে নিজের মানসিক সংযোগের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে সত্যি কথা বলতে। প্রতিটি চরিত্রের সাথে আমি নিজেও যেন স্ক্রিনে জার্নি করেছি। নাবিলা আপু এত গ্রেসফুল, তুমি মাশাল্লাহ! হলে আসার আগে আমি আপুকে যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম যে একটু বলো কেমন করেছ, তুমি কী করছ সেখানে? ও খুব সাধারণ মানুষের মতো বলেছিল, গিয়ে দেখবা, হলেই দেখবা। না, আমি তো তেমন ভালো অভিনয় করিই না।

নাবিলার এই বিনয়ী মনোভাবের প্রশংসা করে সাদিয়া বলেন, আসলে এটিই একজন সত্যিকারের ভালো ও উঁচুমাপের আর্টিস্টের প্রধান লক্ষণ যে, সে সহজে নিজের অভিনয়কে পছন্দ করে না। যখন কোনো শিল্পীর মনে হয় যে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারে বা একজন ভালো আর্টিস্ট সবসময় নিজের অভিনয় থেকে ভুল বের করার চেষ্টা করে, নাবিলা আপুও ঠিক তেমনই একজন পারফেকশনিস্ট। আমি ওনাকে বলেছিলাম, তার মানে তুমি অনেক ভালো করেছ। নাবিলা প্রতিটি চরিত্রের সাথে নিজেকে যেভাবে পর্দায় ক্যারি করেছে, তা সত্যিই ওয়ান্ডারফুল বা চমৎকার ছিল।

সিনেমার মূল চরিত্র ও অন্যান্য অভিনেতাদের নিখুঁত কাস্টিং নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সাদিয়া বলেন, অভিনেতা খাইরুল বাশারকে জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে একদম পারফেক্ট মানিয়ে গিয়েছে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল আমি স্বয়ং কবি ওনাকেই দেখছি। আর অভিনেতা সোহেল মণ্ডলের কথা আমি আলাদা করে না বললে অন্যায় হবে। সে যখনই স্ক্রিনে এসেছে, আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে এটা হয়তোবা আমাদের দেশের কোনো অভিনয় নয়, বরং ইন্টারন্যাশনাল কোনো টপ পারফর্মারের অভিনয় দেখছি, এরকম ফিল হচ্ছিল। খুবই ভালো কাজ করেছে সবাই।

চলচ্চিত্রের কস্টিউম, মেকআপ ও কাস্টিং ডিরেকশনের ভূয়সী প্রশংসা করে এই অভিনেত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। তিনি জানান, কস্টিউম থেকে শুরু করে মেকআপের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্রের সাথে সবাইকে এত সুন্দর মানিয়েছে যে মনে হচ্ছিল সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর একদম পারফেক্ট কাস্টিংগুলোই চশমা দিয়ে খুঁজে খুঁজে বের করে এই সিনেমার ফ্রেমে বসিয়েছেন, যা পুরো ছবিটিকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন