ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি স্থাপনায় হামলা চালালো হুথিরা
অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সামরিক অবস্থান ও লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট, ২০২৬) স্থানীয় সময় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনের কৌশলগত মোচা এলাকা এবং মারিব প্রদেশের তাদাউইন সামরিক শিবিরে অবস্থানরত সৌদি সমর্থিত সেনাদের ব্যারাক, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলাগুলো চালানো হয়। হুথিদের দাবি, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এতে সৌদি নাগরিকসহ কয়েক ডজন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের নিরপেক্ষ তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুথিদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইয়েমেন দখল এবং সংঘাত বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সৌদি সেনাসদস্যদের অবস্থানগুলোতে তাদের এমন সামরিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যারা তাদের ভাষায় ‘দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত হয়ে শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই তাদের সরে আসার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হুথিদের নতুন করে এই ধ্বংসাত্মক হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। দেশটির ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল’-এর চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হুথিদের কোনো অপকর্মই জবাব ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে আল-আলিমি বলেন, “হুথিদের সব কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে রক্তপাত বন্ধে তাদের সামনে এখনো রাজনৈতিক মূলধারায় ফেরার পথ খোলা রয়েছে। আমরা তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে অস্ত্র নামিয়ে রেখে ইয়েমেনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিন।”
উলেখ্য, সম্প্রতি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে খাদ্যবাহী তানজানিয়ার পতাকাবাহী ‘তিহামাহ’ নামক ছোট কার্গো জাহাজে হুথিদের পরপর তিনটির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাবিক ও উদ্ধারকারীসহ অন্তত ৬ জন প্রাণ হারান। নিয়মিত বাণিজ্য ও সামরিক জাহাজে একের পর এক এমন হামলায় লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
|