মর্গে অঙ্গ চুরির মামলায় বিপুল অঙ্কে আপস হার্ভার্ডের
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের (এইচএমএস) মর্গের সাবেক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মানবদেহের কাটা মাথা, মস্তিষ্ক, চামড়া ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে অবৈধ বাজারে বিক্রি করার রোমহর্ষক ও নজিরবিহীন মামলার দেওয়ানি নিষ্পত্তি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও বিচারিক ট্রায়াল এড়াতে ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাবেক মর্গ ম্যানেজার, ৫৮ বছর বয়সী সেড্রিক লজ অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন মার্কিন আদালত।
সোমবার এক যৌথ বার্তায় হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডিন জর্জ ডালি এবং চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের ডিন বার্নার্ড চ্যাংক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়ের করা ক্লাস অ্যাকশন মামলার দীর্ঘ দেওয়ানি আইনি লড়াই এড়াতেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁরা উল্লেখ করেন, "সেড্রিক লজের শাস্তির মধ্য দিয়ে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আর এই অর্থ পরিশোধের মধ্য দিয়ে দেওয়ানি মামলাগুলোরও চূড়ান্ত ইতি ঘটবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলার পর একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টন করা হবে। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
২০২৩ সালে সেড্রিক লজের চরম অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরই হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ এনে একযোগে দেওয়ানি মামলা করেন স্বজনরা।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ‘হার্ভার্ড অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় শিক্ষার উদ্দেশ্যে অনুদান হিসেবে পাওয়া মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ গোপনে কেটে নিতেন লজ। দাহ বা পরিবারকে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেগুলো চুরি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে স্ত্রী ডেনিস লজের সহযোগিতায় চড়া দামে অবৈধ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতেন। ডাকযোগে ও সরাসরি ক্রেতাদের ডেকে এই ভয়াবহ অঙ্গপাচার সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হতো।