গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলোতে নতুন ৩টি কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, প্রবাসী সেবা ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে চীনের গুয়াংজো, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ব্রাজিলের সাও পাওলো—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে নতুন তিনটি ‘কনস্যুলেট জেনারেল’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
গত ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি ও সংগঠন শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন মিশনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পদ তৈরি, যানবাহন এবং দাপ্তরিক সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করতে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন মহাদেশের এই প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
গুয়াংজো (চীন): দক্ষিণ চীনের প্রধান বাণিজ্যিক ও বন্দর নগরী গুয়াংজোতে প্রচুর বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাস করেন। বর্তমানে বেইজিং ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশি মিশন থাকলেও গুয়াংজোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেবা প্রদানে বেগ পেতে হতো। নতুন কনস্যুলেট জেনারেল চালুর ফলে বাণিজ্য এবং প্রবাসী সেবা আরও গতিশীল হবে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট (জার্মানি): ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম তৈরি পোশাক ও পণ্যের রপ্তানি বাজার, আর সেখানে জার্মানির অবদান শীর্ষপর্যায়ে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো। রাজধানী বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাস থাকলেও ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও অর্থলগ্নি কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট খোলা হলে সরাসরি ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়ানোর বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সাও পাওলো (ব্রাজিল): লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের প্রধান শিল্প নগরী সাও পাওলো। ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ব্রাজিলের সাথে সম্প্রতি সম্পর্ক জোরদার ও কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীতে ব্রিকস এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’ প্ল্যাটফর্মে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো ও লাতিন আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করবে এই কনস্যুলেট।
অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ায় চীন, ইউরোপে জার্মানি এবং লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিল—তিনটি মূল অর্থনৈতিক বলয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও সুসংহত করতে এই সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভূমিকা রাখবে।