২৮ বার পদত্যাগের হুমকি পেজেশকিয়ানের, এবার দিলে গ্রহণের হুঁশিয়ারি খামেনির

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ
২৮ বার পদত্যাগের হুমকি পেজেশকিয়ানের, এবার দিলে গ্রহণের হুঁশিয়ারি খামেনির
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঙ্কার দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যদি আর একটিবারও পদত্যাগের হুমকি বা লিখিত চিঠি দেন, তবে কালবিলম্ব না করে তা সাথে সাথে গৃহীত হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ এক নিকটাত্মীয়ের এই বিস্ফোরক দাবির পর গোটা তেহরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম মোহাম্মদ-বাগের খারাযি (যার বোন মোজতবা খামেনির ভাইয়ের স্ত্রী) দাবি করেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নীতিগত দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৮ বার আনুষ্ঠানিকভাবে ও মৌখিকভাবে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন।

খারাযি সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, "খামেনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন—পেজেশকিয়ান যদি আর মাত্র একবার পদত্যাগের প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তবে আমি নিচে 'অনুমোদিত' লিখে সাথে সাথে সই করে দেব এবং সেখানেই এই নাটকের ইতি ঘটবে।"

এর আগে গত ২০২৬ সালের মে মাসে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদে উঠে এসেছিল যে, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে সশস্ত্র রিভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বেপরোয়া হস্তক্ষেপ ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবের প্রতিবাদে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন পেজেশকিয়ান।

তবে খারাযির এই সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও চরমপন্থীদের চক্রান্ত’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক ডেপুটি মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, "ব্যালট বাক্সে ভরাডুবি হওয়া চরমপন্থী একটি রাজনৈতিক চক্র জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে কাল্পনিক গল্প ছড়াচ্ছে। এরা দেশের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ১৭ জুন স্বাক্ষর করা বহুল আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈপ্লবিক সমঝোতা স্মারক নিয়েই পেজেশকিয়ানের সংস্কারপন্থী সরকার এবং কট্টরপন্থী ও আইআরজিসি শিবিরের মধ্যে এই গভীর বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। কট্টরপন্থীদের মতে এই চুক্তি ইরানের জাতীয় নীতির পরিপন্থী হলেও, প্রেসিডেন্টের দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্যের সম্মিলিত অনুমোদন ও সর্বোচ্চ নেতার সম্মতি নিয়েই তারা যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে অগ্রসর হয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন