দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল : ওয়াশিংটনে চুক্তি
নেতানিয়াহু জানান, লিতানি নদীর উত্তর ও দক্ষিণের দুটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বিষয়টিকে ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “যেসব এলাকা সামরিকভাবে আর প্রয়োজন নেই, সেখান থেকেই সেনা সরানো হচ্ছে।” তবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ বলেন, “এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে বলেন, “লেবানন ও ইসরায়েলের জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাসের যোগ্য। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কেবল শুরু মাত্র।”
এদিকে এই চুক্তির বিষয়টি লেবাননের অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আলোচনার আয়োজনের জন্য মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার মতে, এই সমঝোতা দেশের সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে ফিরিয়ে আনতে এবং ‘সম্পূর্ণ মুক্ত ভূখণ্ডে’ ফিরতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য ও হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদাল্লাহ এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি সরকারের প্রতি চুক্তি ও আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “যে ব্যক্তি শত্রুর সঙ্গে করমর্দন করে, সে তাদের মতোই অপরাধী।”
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে সরকারি বাহিনী মোতায়েন করার উদ্যোগ হিজবুল্লাহর প্রভাব কমিয়ে লেবানন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার একটি মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলী প্রচেষ্টা। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয় কি না।
|