অনলাইন ডেস্ক:পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) নিজেদের মৌলিক অধিকার ও সুশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত বেসামরিক মানুষের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জ ও গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে অবস্থিত পাকিস্তান কনস্যুলেটের সামনে মঙ্গলবার এক বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন প্রবাসী কাশ্মীরি অধিকারকর্মীরা।
সমাবেশ থেকে পিওকে-তে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং সাম্প্রতিক প্রাণহানির নিরপেক্ষ ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাওয়ালাকোট, কোটলি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী মারাত্মক অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। ব্র্যাডফোর্ডের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পিওকে-র মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে, পিওকে-তে টানা ৫২ দিন ধরে চলা যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) ব্যানারে আয়োজিত এই আন্দোলন পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিতর্কিত নির্বাচনী আইনের পরিবর্তন করা।সোমবার জেএএসি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা চূড়ান্ত কোনো সমাধান ছাড়াই ভেস্তে যায়। এরপর সোমবার দুপুর ১টার ডেডলাইন পার হওয়ার পর হাজার হাজার ক্ষুব্ধ অধিবাসী রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে লং মার্চ বা পদযাত্রা শুরু করেন।
অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল পদযাত্রা আটকানোর উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা বাহিনী রাওয়ালাকোটে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও সরাসরি তাজা গুলি ছুড়েছে। আন্দোলনকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেই অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।জেএএসি-র অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ইমতিয়াজ আসলাম এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, নিহতদের মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রবীণ নেতা ওমর নাজির কাশ্মীরির ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন। এছাড়া খাইগালা, কোটলি, তাত্তাপানি ও বানজা এলাকাতেও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জেএএসি-র দেওয়া তথ্যমতে, গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ দফার আন্দোলনে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে গিয়ে ঠেকেছে।তবে স্থানীয় পাকিস্তান প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাণহানির এই দাবির সংখ্যা অস্বীকার করে বলা হয়েছে, অনেক স্থানে বিক্ষোভকারীরাই সহিংস হয়ে ওঠায় বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সমগ্র পিওকেজুড়ে তীব্র উত্তেজনা, পরিবহন ধর্মঘট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে অধিকারকর্মীরা জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে দ্রুত এই অঞ্চলে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।