ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১০, আহত অন্তত ৮০
অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে রাশিয়া একের পর এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার দিনভর চালানো এই হামলা যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং মারাত্মক আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ ভবনে রুশ ড্রোন সরাসরি আঘাত হানলে সেখানে দ্রুত আগুন ধরে যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ওপরের তলা থেকে মই বেয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। রাজধানী কিয়েভেই এই হামলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওষুধ কোম্পানি, পেট্রল স্টেশন ও চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর দিনিপ্রোর এক ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রুশ ড্রোন হামলায় আরও ৩ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। সেখানে পার্ক, লাইব্রেরি ও আবাসিক ভবনে ঘেরা ওই এলাকায় দিনের ব্যস্ত সময়ে এই হামলা চালানো হয়। এছাড়া দিনিপ্রোর লজিস্টিক কার্যালয়ে আরও একজন নিহত হন এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের অবকাঠামোতে হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, হামলায় রাশিয়ার নতুন ধরনের প্রযুক্তি 'জেট ড্রোন' ব্যবহারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, সোমবারে নিক্ষেপ করা ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টিই ছিল দ্রুতগতির ও উচ্চতায় উড়তে সক্ষম জেটচালিত ড্রোন। দেশটির বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলোর মাত্র ৫৭ শতাংশ ড্রোন ভূপাতিত বা অকার্যকর করা সম্ভব হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্য এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে কুরস্ক অভিযানে দেখা যাওয়া প্রায় ৮ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা এখনো রাশিয়ায় অবস্থান করছে এবং আরও ১০ হাজার সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে সেনা সমাবেশের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। সোমবার ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও দুটি প্রতিরক্ষা কারখানায় আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি।