তামিলনাড়ুতে বিজয় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র প্রজেক্ট মেঘালয়া ৯ গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সদ্য গঠিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিজাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার উৎখাতের এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করেছে চেন্নাই পুলিশ। সরকার পতনের এই চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজয়। কিন্তু এর দেড় মাসের মাথায়, জুন মাসেই তাঁর নবাগত সরকারকে ফেলার গোপন ছক কষা হয়, যা তদন্তকারীদের কাছে ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’ নামে পরিচিতি পায়।
‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’ ও বিধায়ক কেনাবেচার ছক: তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষা পরামর্শক ও বিতর্কিত ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসুকে সামনে রেখে এই ষড়যন্ত্রের ঘুটি সাজানো হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিজয়ের দল টিভিকে-র অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে ক্রয় করা।
ফ্লোর ক্রসিং বা দলবদল বিরোধী আইনি জটিলতা এড়াতে কৌশল হিসেবে প্রথমে বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ছক ছিল। পরবর্তীতে ১৫ জন বিধায়কের একযোগে পদত্যাগের মাধ্যমে বিজয়ের জোট সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন করে তোলাই ছিল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে বিজয়-এর দল ১০৮টি আসন পায় এবং ছোট দলগুলোর সমর্থনে ১১৮ আসনের সমীকরণ মিলিয়ে সরকার গঠন করে।
৩৫ কোটি রুপি ঘুষের প্রস্তাব ও খুনের হুমকি: পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উথানগারাই বিধানসভা কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন. ইলাইয়ারাজার সঙ্গে যোগাযোগ করেন অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসু। দলীয় হুইপ অমান্য করে ভোটদানে বা পদত্যাগে তাঁকে ৩৫ কোটি রুপির টোপ দেওয়া হয়।
কিন্তু বিধায়ক ইলাইয়ারাজা এই কুপ্রস্তাব তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৯ জুন তিনি চেন্নাই পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নেমে ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’র গোপন তথ্য উদ্ধার করে।
সন্দেহের জালে সাংবাদিক ও ডিএমকে নেতৃত্ব: অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী তিরুনাভুক্কারাসুসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণে পুথিয়া থালাইমুরাই চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক বিজয়নের সঙ্গে মূল অভিযুক্তের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে পুলিশ তাঁর ফোন জব্দ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, সাবেক ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে-এর সম্পৃক্ততার সূত্র মেলায় সাবেক মন্ত্রী সেন্থিল বালাজি ও তাঁর ভাই অশোক বালাজিকে তলব করা হয়েছে। যদিও ডিএমকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত সেপ্টেম্বরে বিজয়ের এক জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন নিহতের ঘটনায় ডিএমকে ও সেন্থিলকে দায়ী করা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতা বিরাজ করছিল।
|