পাহাড়ি অঞ্চলে আধিপত্য বাড়াতে কেন মরিয়া ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
পাহাড়ি অঞ্চলে আধিপত্য বাড়াতে কেন মরিয়া ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা

অনলাইন ডেস্কঃ ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর শেষ ঘাঁটিগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবার কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চলের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইয়েমেনে হুতির ওপর নির্ধারিত বিমান হামলা স্থগিত করার নির্দেশের পরপরই নতুন করে পাহাড়ি সীমান্তগুলোতে লড়াই জোরদার করেছে গোষ্ঠীটি।

হুতিদের প্রধান লক্ষ্য হলো তায়েজ ও লাহিজ প্রদেশের মধ্যবর্তী 'কাহবুব পাহাড়' হিসেবে পরিচিত কৌশলগত উচ্চভূমির দখল নেওয়া। এই উচ্চভূমিগুলো কবজায় এলে হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে পারবে এবং দক্ষিণের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলতে সক্ষম হবে।

সৌদি আরব রাজকীয় বিমান বাহিনীর মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় হুতিদের লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালালেও তাদের অগ্রযাত্রা থামানো যাচ্ছে না। এদিকে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংঘাত বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে হুতির এই আধিপত্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সৌদি আরব এখন বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের চালান বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে পরিশোধিত ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, ইয়েমেন সংঘাত ও বিশ্ব জ্বালানি বাজার সংক্রান্ত সর্বশেষ খবরাখবর পড়তে চোখ রাখুন Reuters-এর অফিসিয়াল পোর্টালে।

পাহাড়ি অঞ্চলে হুতির আধিপত্য বাড়ানোর মূল কারণসমূহ

  • কৌশলগত অবস্থান ও ভৌগোলিক সুবিধা: উচ্চমানের পাহাড়ি অঞ্চল (যেমন কাহবুব পাহাড়) নিজেদের দখলে নিলে সেখান থেকে নিচু এলাকা, উপকূল এবং প্রতিপক্ষের সামরিক ঘাটির ওপর সহজে নজরদারি ও কামানের গোলা বর্ষণ করা যায়।

  • বাব আল-মান্দেব প্রণালি সুরক্ষা: কৌশলগত পাহাড়ি সীমান্তগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব এবং সংলগ্ন দ্বীপগুলোতে (যেমন পেরিম দ্বীপ) হুতিদের দখল বজায় রাখা ও সুরক্ষিত করা সহজ হয়।

  • সরকারি বাহিনীকে বিচ্ছিন্নকরণ: কৌশলগত পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নিলে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোর সংযোগ পথ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

  • নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলা: পাহাড়ি উচ্চভূমি দখলের মাধ্যমে তায়েজ ও লাহিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলে কৌশলগত সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়, যা প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য করে।

  • আকাশ হামলা থেকে সুরক্ষা: দুর্গম পাহাড়ি গুহা ও পাহাড়ি উপত্যকা আকাশপথের বিমান হামলা থেকে নিজেদের অস্ত্র ও যোদ্ধাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

মন্তব্য করুন