ভারী বৃষ্টিতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ৮ জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ৮ জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের আটটি জেলায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বেশ কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমা বা সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রবিবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাতে সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী দুই দিন দেশের ভেতরে রংপুর ও সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল পূর্বাভাস রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

অপরদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী সুরমার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে, যা পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি প্লাবন ঘটাতে পারে।

এদিকে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা পেরিয়ে আশপাশের নিম্নাঞ্চল ভাসিয়ে দিতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে, যা চরাঞ্চলগুলোকে প্লাবিত করার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা গণমাধ্যমকে বলেন, "কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।"

মন্তব্য করুন