আলমগীর হত্যা মামলায় সাবেক এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
আলমগীর হত্যা মামলায় সাবেক এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক:নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মামলার এক নম্বর আসামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সাবেক নেতা রয়েছেন। গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক।

এর আগে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় একটি বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের আভিযানিক দল।

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে ও হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শোয়াইব রহমান সোহেব (৪২) এবং বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার বছিরের ছেলে ও মামলার ১০ নম্বর আসামি মো. সুমন (৩৮)।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকায় স্থানীয় একটি অটোরিকশার গ্যারেজে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সালিশ বৈঠক বা আপস-মীমাংসার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সালিশ চলাকালীন সময়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি গুরুতর আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে মারা যান আলমগীর।

নিহত আলমগীর হোসেন বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে ছিলেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের আপন বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন, যার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিলেন।

এদিকে, গ্রেপ্তার শোয়াইব রহমান সোহেবের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শোয়াইব রহমান সোহেব একসময় এনসিপির বন্দর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে সাংগঠনিক নানা কারণে পরবর্তীতে ওই উপজেলা কমিটিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জে আমাদের একটি বিশেষ চৌকস দল অভিযান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দুই এজাহারনামীয় আসামিকে আইনের আওতায় এনেছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে তাঁদের বন্দর থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন