করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর, প্রতারণা এড়াতে ৪ নির্দেশনা

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর, প্রতারণা এড়াতে ৪ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: করদাতাদের কর নথি বা ফাইল অডিটে পড়ার কথা বলে এক শ্রেণির সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও সতর্কতা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো অবস্থাতেই করদাতাদের এই চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার এবং কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা মোবাইল আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ রবিবার (৫ জুলাই) এনবিআর-এর রাজস্ব ভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জারি করা হয়।

এনবিআর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা গেছে যে, একটি সুনির্দিষ্ট প্রতারক চক্র করদাতাদের কর নথি (File) অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে—এমন ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে সরাসরি যোগাযোগ করছে। তারা এই অডিট থেকে ফাইলটি অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বা করদাতাদের আইনি হয়রানির ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করছে।

এই বিষয়ে দেশের সম্মানিত করদাতাদের সচেতন ও সুরক্ষিত থাকার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চার দফা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. লিখিত নোটিশ ছাড়া কোনো যোগাযোগ নয়: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর নথি অডিট সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, অননুমোদিত হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী কোনো ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে, তা কেবল আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমেই করদাতাকে ডাকযোগে বা অফিশিয়ালি জানানো হয়।

২. আর্থিক লেনদেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা: কর সংক্রান্ত যেকোনো বকেয়া কর, জরিমানা বা ফি শুধুমাত্র সরকারি চালানের মাধ্যমে বা অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির করদাতার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থ কিংবা বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অথবা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের কোনো আইনগত এখতিয়ার বা অধিকার নেই।

৩. তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাই: এই ধরনের কোনো সন্দেহজনক ফোন কল, খুদে বার্তা (SMS) কিংবা ইমেইল পেলে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করদাতাকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে (ডিসিটি অফিস) সরাসরি বা অফিশিয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করে নথির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪. দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ: কোনো প্রতারক চক্র যদি এনবিআর-এর ভুয়া কর্মকর্তা সেজে বা পরিচয় দিয়ে অডিটের নামে অর্থ দাবি করে, তবে কোনো বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে (পুলিশ) বিষয়টি অবহিত করতে হবে। একই সাথে আইনি সুবিধার স্বার্থে প্রতারকের ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও কল রেকর্ডটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের সর্বদা হয়রানিমুক্ত, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানে পুরোপুরি বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহভাজন এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখতে এবং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর আস্থা বজায় রাখতে করদাতাদের এই সময়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন