গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি নিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশ: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি নিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদ-প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সম্প্রতি প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের লটারি পদ্ধতিতে অনিয়ম, গ্রেডিং শিট পরিবর্তন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অনুমাননির্ভর এসব অভিযোগের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নানা অভিযোগ, তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। লটারি কার্যক্রমটি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে উন্মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তা ছাড়া টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো এ লটারি কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করায় পুরো প্রক্রিয়াটি সবার কাছে উন্মুক্ত ছিল। এমন একটি প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। উল্লেখ্য, লটারির মাধ্যমে পদায়নের পর কোনো কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক মানবিকভাবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বদলি ও পদায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ লটারি পদ্ধতি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বর্তমানে অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও অনুসরণ করা হচ্ছে। অথচ এমন একটি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সম্পূর্ণ কাল্পনিকভাবে ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ নেই।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে উল্লেখিত সিনিয়র সাংবাদিক রুস্তম মল্লিকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কে বা কারা তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এ অভিযোগ দায়ের করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মনে করে, অনুমাননির্ভর ও প্রমাণহীন অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনাকাঙ্ক্ষিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি।

অতএব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এআইএল/সকালবেলা