বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বহুল প্রতীক্ষিত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা অর্থ পেতে শুরু করেছেন দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মোট ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতার অর্থ প্রদান শুরু করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধার অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশাল তহবিল দিয়ে দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষককে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আজকের দিনটি আমাদের শিক্ষক সমাজের পাশাপাশি গোটা জাতির ইতিহাসেও অত্যন্ত স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। দেশমাতার শুভ জন্মদিনের এই দিনে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের চোখের জল মুছতে পারা আমাদের জন্যও চরম পরম তৃপ্তি ও আনন্দের।’

শিক্ষামন্ত্রী কর্মসূচির সার্বিক বিন্যাস তুলে ধরে জানান, পুরো প্রকল্পটির অধীনে দেশজুড়ে মোট ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে পেনশন বা অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এই সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত কল্যাণ ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হবে।

তবে শিক্ষকদের বকেয়া পাওনার পূর্ণাঙ্গ অংশ এখনই একযোগে প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাওনা বকেয়া রাখা নিয়ে অনেকের মাঝেই নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। তবে আশ্বাস দিতে চাই, পর্যাপ্ত তহবিল প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাকি সমস্ত অর্থ শতভাগ পরিশোধ করা হবে।’

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যমান তহবিল সংকটের পেছনে বিগত আমলের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাবেক সরকারের সময়ে এই ট্রাস্ট খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও তছরুপ করা হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি ও ভঙ্গুর ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সরকারি ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত থাকা অর্থ দ্রুত উদ্ধারে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

ড. এহছানুল হক মিলন উল্লেখ করেন, শিক্ষক সমাজ তাঁদের কষ্টার্জিত বেতন থেকে নিয়মিতভাবে ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ হারে কেটে নেওয়া অনুদান দিয়ে আসছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ বন্ডসহ এই ট্রাস্টের অধীনে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বন্ড সম্পদ জমা রয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়কে সুনির্দিষ্টভাবে কাজে লাগিয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের বাকি পাওনা বকেয়াও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ সম্পন্ন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে এই ট্রাস্টের যে পুনর্জাগরণ শুরু হলো, আগামী বছর থেকে প্রতি অর্থবছরে নিয়মিতভাবে শিক্ষকদের অবশিষ্ট পাওনা চুকিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, ‘জাতি গঠনের মূল কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। জীবনের দীর্ঘ সময় পার করার পর অবসরের সময়ে তাঁদের হাতে সামান্য কিছু তুলে দিয়ে বিদায় দেওয়া যথেষ্ট নয়—এই মানবিক উপলব্ধি থেকেই তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকার বীজ তহবিল যোগান দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের এই বিশাল কার্যক্রমের গোড়াপত্তন করা হয়।’

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই প্রথম দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারি অনুদান হিসেবে দেওয়ার যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালু হয়েছিল এবং গুণী শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের ধারা সূচিত হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে শিক্ষকদের সার্বিক কল্যাণ, সম্মাননা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিশেষে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সব যৌক্তিক দাবি ও পাওনা পরিশোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য করুন