আগামী ৫ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ফাউন্ডেশন এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটিরও বেশি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি (NEC) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো ফাউন্ডেশন বা উন্নয়ন সংস্থাকে ওপর থেকে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা বা চাপ চাপিয়ে দেইনি। বরং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, ক্ষেত্র ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে আগামী পাঁচ বছরের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।” সংস্থাগুলোর সামগ্রিক পরিকল্পনা একত্র করলে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, বাস্তবে কতজনের টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হলো তা নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় রাখা হবে।
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার রূপরেখা তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ফাউন্ডেশনগুলোর কার্যক্রমকে কয়েকটি কার্যকর ক্লাস্টারে বিন্যস্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে। এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ (One Village One Product) ধারণার তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যবাহী সম্ভাবনাময় পণ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন, বাজার সংযোগ এবং রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করবে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব নীতিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেকসই উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকদের ধীরে ধীরে উৎপাদকের কাতারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশে বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্রাহকদের ব্যয়ের মাত্র ২০ শতাংশ বহন করতে হবে; অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ অর্থায়ন ইডকলসহ (IDCOL) অন্যান্য সহযোগী আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে সহজ শর্তে সরবরাহ করা হবে।”
সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ফাউন্ডেশনগুলোর নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতাকে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক যাকাতের অর্থকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আরও স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
বিগত নীতিমালার সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, “অতীতের সরকারগুলো দেশে কোনো টেকসই জ্বালানি কাঠামো তৈরি করতে পারেনি; বরং আমদানিনির্ভরতা ও চরম স্বজনপ্রীতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। আমরা সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে বের করে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা ও বলিষ্ঠ কর্মসংস্থান কাঠামো নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সামগ্রিক লক্ষ্য বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।”
রাষ্ট্রীয় তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) বিশেষ ফরেনসিক যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে বিবিএসকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আক্তারসহ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।