বিদেশের কারাগারে বন্দি ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিদেশের কারাগারে বন্দি ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি
বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বর্তমানে ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন বলে জাতীয় সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) কাজী এনামুল হকের এক লিখিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসগুলো থেকে সংগৃহীত সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন অভিযোগে বিদেশের কারাগারে আটক বা সাজা ভোগ করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া নাগরিকরা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী ওই দেশের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌম আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকেই বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক দেনদরবার ও সুরক্ষামূলক তৎপরতা পরিচালনা করতে হয়।

বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের সহায়তায় সরকারের গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশের মাটিতে আটক থাকার সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট মিশন বা দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দ্রুত কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে বন্দির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। সেখানে আটক ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, মামলার ধরন ও নথিপত্র সংগ্রহ করে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা এবং আইনি পরামর্শ দেওয়া নিশ্চিত করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, যেসব বন্দির নিজস্ব খরচে আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্য থাকে না, দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে তাদের জন্য সরকারি আইনজীবী (পাবলিক ডিফেন্ডার) নিযুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর পরিবার যদি নিজ উদ্যোগে আইনজীবী দিতে চায়, তবে দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় যাবতীয় আইনি গাইডলাইন ও সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

মুক্তির প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সাজার মেয়াদ শেষ হলেও কেবল আর্থিক জরিমানা পরিশোধ করতে না পারায় প্রবাসীরা মুক্তি পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বন্দির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে সাজাশেষে দেশে ফেরার বিমান টিকিটের সংস্থান করা হয়। কোনো পরিবার যদি প্রত্যাবাসনের এই ব্যয়ভার বহনে একেবারেই অক্ষম হয়, তবে সরকারি তহবিল থেকে সেই খরচ বহন করে প্রবাসীকে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বন্দিদের দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে নির্ধারিত কূটনৈতিক প্রটোকল সহায়তা এবং কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য জরুরি ‘ট্রাভেল পাস’ ইস্যু করা হয়। পুরো এই সেবা কার্যক্রমটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাগতিক দেশের প্রচলিত আইনে সাধারণ ক্ষমার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষেত্রবিশেষে স্বাগতিক সরকারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ ক্ষমা নিশ্চিত করতেও বাংলাদেশ সরকার নিয়মিতভাবে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক অসংখ্য নাগরিক এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারের জলসীমায় ভুলবশত আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি জেলেকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে সফল কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

বিদেশে বন্দি থাকা প্রবাসীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তাঁদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব দ্রুত একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল অনলাইন পোর্টাল চালু করতে যাচ্ছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন ড. খলিলুর রহমান।

মন্তব্য করুন