দৌলতপুরে বন্যার পানিবৃদ্ধি, ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত
কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যা ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুরের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ায় রোপা আমন, কলা ও মরিচসহ প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন।
বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় দুর্গত এলাকার মানুষ গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রেখে ভবনগুলো আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পানিবন্দী মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা