নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষকদের চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী দিনে কোনো শিক্ষককে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে অবশ্যই আগে শিক্ষকতার পেশা বা চাকরি ছাড়তে হবে—এমন কঠোর আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে শিক্ষা খাতের বিশেষ অনুদান ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে শিক্ষকরা যাতে যুক্ত হতে না পারেন, সে জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কেউ যদি জনপ্রতিনিধি হতে চান বা নির্বাচন করতে চান, তবে তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিয়েই সেই পথে আসতে হবে।" শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষকদের পেছনে রাষ্ট্র পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে। এই বিনিয়োগের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদেরও অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নতুন প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক মানোন্নয়ন ও রূপান্তরের জন্য ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল বৈশ্বিক অনুদান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের যেন কোনো অপচয় না হয় এবং এর সুফল যেন প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পায়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এআইএল/সকালবেলা
|