পুষ্পা স্টাইলে মাদক পাচারের চেষ্টা, তেলেঙ্গানায় আটক গাঁজার বড় চালান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ণ
পুষ্পা স্টাইলে মাদক পাচারের চেষ্টা, তেলেঙ্গানায় আটক গাঁজার বড় চালান

বিনোদন ডেস্ক:: ভারতের ব্লকবাস্টার ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমায় মূল্যবান লাল চন্দন কাঠ পাচার করে কোটি কোটি রুপি কামিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আল্লু অর্জুন। সেই সিনেমায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি প্রতিনিয়ত বেছে নিতেন অভিনব ও গা শিউরে ওঠা সব কৌশল। সেলুলয়েডের সেই ‘পুষ্পা’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ঠিক একই কায়দায় এবার বাস্তবে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করেছিল ভারতের আন্তঃরাজ্য একটি মাদক চোরাচালান চক্র। কিন্তু সিনেমায় পাচারকারী সফল হলেও, বাস্তবের কঠোর মাটিতে তেলেঙ্গানা পুলিশের জালে আটকা পড়ে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে এই আধুনিক পুষ্পাদের।

সিনেমায় লাল চন্দন পাচারের জন্য আল্লু অর্জুন নানা কায়দা অবলম্বন করতেন, যার মধ্যে অন্যতম ও প্রধান একটি কৌশল ছিল দুধের বিশাল ট্যাঙ্কারের নিচে একটি গোপন কুঠুরি বা চেম্বার বানিয়ে তার ভেতর চন্দন কাঠ লুকিয়ে ওপরে সাধারণ দুধ ভর্তি রাখা। ঠিক একইভাবে, এই চক্রটি একটি বড় কন্টেইনার ট্রাকের ভেতরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লোহার গোপন কুঠুরি বানিয়ে তার ভেতর বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচার করছিল। কিন্তু পাচারকারীরা হয়তো ভুলে গিয়েছিল যে, ‘পুষ্পা’ সিনেমাটি শুধু তারাই দেখেনি, দেশের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তারাও দেখেছেন। ফলে সেই গোপন কুঠুরি আর বেশিদিন গোপন থাকেনি।

নির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলেঙ্গানার বিশেষ বাহিনী ‘ঈগল ফোর্স’ এবং ভদ্রাদ্রি কোঠাগুদেম জেলা পুলিশ যৌথভাবে একটি হাই-অক্টেন অপারেশন চালায়। পুলিশ দল দলবদ্ধভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে একটি সন্দেহভাজন কন্টেইনার ট্রাক এবং সেটির সামনে পাহারায় (স্কোয়াড) থাকা একটি মোটরসাইকেলকে ক্রমাগত অনুসরণ করতে থাকে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ দলটির কৌশলী অবস্থান ও ধাওয়ার মুখে আইটিসি পেপারস বোর্ড ওয়েস্ট গেটের কাছে যানবাহন দুটিকে অবরুদ্ধ ও আটকে দেওয়া হয়। এরপর ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সেই বিশেষ গোপন কুঠুরির সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় আনুমানিক ২ কোটি ৬২ লাখ রুপি মূল্যের ৫২৫ কেজি উচ্চমানের গাঁজা।

স্থানীয় তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ গাঁজার চালানটি ওড়িশার দুর্গম ‘আল্লুরিকোটা’ বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর তেলেঙ্গানায় প্রবেশের আগে তা অন্ধ্রপ্রদেশের তুলাসিপাকা সীমান্ত হয়ে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা হচ্ছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল চালানটি তেলেঙ্গানার খাম্মাম, ওয়ারাঙ্গল, আদিলাবাদ এবং প্রতিবেশী রাজ্য মহারাষ্ট্রের রুট হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর প্রদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সফল এই অভিযানে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই আন্তর্জাতিক এই মাদক চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ জানায়, এদের মধ্যে একজন ওড়িশার মূল মাদক সরবরাহকারী, একজন অন্ধ্রপ্রদেশের এসকর্ট আরোহী (যিনি মোটরবাইক নিয়ে পথ দেখিয়ে আনছিলেন) এবং অন্যজন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা ওই কন্টেইনার ট্রাকের চালক। পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং এই চক্রের পেছনে থাকা কন্টেইনার ট্রাকের আসল মালিক এবং উত্তর ভারতের মাদকের বড় গ্রাহকদেরও খুঁজছে।

মন্তব্য করুন