নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মাসুদের গলিত মরদেহ
অনলাইন ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার নিখোঁজ অটোরিকশাচালক মাসুদ মিয়ার (৪২) গলিত ও বিকৃত মরদেহ নিখোঁজের ১০ দিন পর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
গত সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় ভৈরব উপজেলার কালিপুর গ্রামের পাশের মেঘনা নদী থেকে ভাসমান ও বস্তাবন্দি অবস্থায় এই গলিত মরদেহটি উদ্ধার করে ভৈরব নৌ-পুলিশ। নিহত মাসুদ মিয়া বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের श्यामপুর গ্রামের মৃত আসাদ মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর এক সচেতন ব্যক্তি নিহতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবি দেখে মাসুদের স্বজনরা কাপড়ের টুকরো ও অবয়ব দেখে তাঁর মরদেহটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেন।
শনাক্তকরণের পর ভৈরব নৌ-পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহটি দাফনের জন্য নিহতের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা একটি গণমাধ্যমকে জানান, গত ১৯ জুন জীবিকার তাগিদে কাজের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে মাসুদ মিয়ার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য সব জায়গায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় গত ২৩ জুন বাজিতপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
মাইজচর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার একটি গণমাধ্যমকে জানান, নিহত মাসুদ ঢাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি রাজধানী ও নিজ এলাকায় বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিক্রিও করতেন তিনি। তিনি মাঝেমধ্যে কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে কয়েকদিন অবস্থান করে আবার ঢাকায় ফিরে যেতেন। আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডের ফলে তাঁর পরিবারে চার মেয়ে ও এক ছেলে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শহীদুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে জানান, "গত ২৩ জুন থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করা হয়েছিল। তবে যেহেতু নিহতের মরদেহটি ভৈরব থানা এলাকার নদী সীমানা থেকে উদ্ধার হয়েছে, তাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত ও হত্যা মামলা সংশ্লিষ্ট ভৈরব থানাতেই দায়ের হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা দায়ের না হলেও পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।"
|