মিয়ানমারে বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি: মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আকস্মিক ও পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকা। ওপারে হওয়া এই ভারী বিস্ফোরণের তীব্র ঝাঁকুনিতে টেকনাফের জাদিমুড়া থেকে শুরু করে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত পর্যন্ত আশপাশের সমগ্র জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে চার দফা ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো সীমান্ত এলাকা কেঁপে ওঠে।
শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে সেই মুহূর্তের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বলেন, "হঠাৎ করেই পুরো বাড়িঘরে এক ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল যেন তীব্র কোনো ভূমিকম্পে পৃথিবী কেঁপে উঠছে। আমরা পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আকাশজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখাও স্পষ্ট দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল সেই আগুনের ঝলক বুঝি আমাদের দিকেই ধেয়ে আসছে।" স্থানীয় সীমান্তবাসীদের ধারণা, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার তুমুল লড়াইয়ের জেরে এই ভারী মর্টার শেলের বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম জানান, প্রায় সাত মাস শান্ত থাকার পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে ভারী গোলাবর্ষণের শব্দ ভেসে এল। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘরবাড়ি কাঁপতে থাকায় প্রথমে অনেকেই ভূমিকম্প মনে করে আতঙ্কে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। পরে সবাই বুঝতে পারেন যে, নাফ নদীর ওপার থেকেই এই কামানের গর্জন আসছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) আবুল ফয়েজ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, "বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের টেকনাফ সীমান্তেও। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে। আকস্মিক এই ঘটনায় আতঙ্কে অনেক মানুষ মাঝরাতেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এমন ভীতিকর পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।"
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া একটি গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "বুধবার রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ওপারে চলমান ওই সশস্ত্র সংঘাতের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যার কারণে অনেক স্থানে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে।"
বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ওপর বিজিবি কড়া নজরদারি রাখছে। সীমান্ত পরিস্থিতি সরেজমিনে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে তিনি নিজেই রাতেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পরিদর্শনে গিয়েছেন। নাফ নদী পেরিয়ে যাতে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
|