আইভরি কোস্টে বন্যায় ৫৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে
অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক ভূমিধসে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) দেশটির সরকারের এক শীর্ষ মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইভরি কোস্টের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বন্যা ও বৃষ্টিপাত সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ প্রাণহানির ঘটনায় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে জলবায়ুজনিত কারণে হওয়া সর্বশেষ চার-পাঁচ দিনের বন্যায় ঠিক কতজন আলাদাভাবে মারা গেছেন, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উল্লেখ করেননি।
এর আগে গত সোমবার পার্শ্ববর্তী দেশ ঘানা এবং আইভরি কোস্টের প্রধান শহরগুলোতে কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাথমিকভাবে ২৪ জনের মৃত্যু এবং আরও বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘানার রাজধানী আক্রায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে পুরো জনপদ প্লাবিত হয়ে অসংখ্য বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি ও প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে শহরের একাধিক এলাকার সঙ্গে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘানার তেমা শহরেও একই রকম জরাজীর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে।
এদিকে, আইভরি কোস্টে টানা কয়েক দিনের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে বাণিজ্যিক রাজধানী আবিজানসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে চরম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী বেলমন্দে দোগো জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই রাজধানী আবিজানের আটেকুবে ও ইয়োপুগো এলাকার বাসিন্দা। ভূমিধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় এ ধরনের প্রাণঘাতী বন্যা ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া এখন নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে সামগ্রিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশের অবদান মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি বা তুলনামূলকভাবে খুবই কম হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও চরম আবহাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ অঞ্চলগুলোর মধ্যে আফ্রিকা অন্যতম।
|