বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরই বাবাকে হারালেন কঙ্গো কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠে তখনো চলছিল নকআউট পর্বের শেষ মুহূর্তের ট্র্যাজেডিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার তীব্র যন্ত্রণা। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার সেই শোক তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি ডিআর কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ঠিক এমন মুহূর্তেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও মর্মান্তিক দুঃসংবাদটা শুনলেন এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড— চিরদিনের জন্য নিজের জন্মদাতা পিতাকে হারিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বাবার মৃত্যুর সংবাদ শোনেন কঙ্গোর কোচ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দুঃসংবাদটা যখন তার কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি ম্যাচ-পরবর্তী নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে তিনি যখন কক্ষ ছাড়বেন, ঠিক তখনই কঙ্গো ফুটবল দলের মিডিয়া অফিসার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ঘোষণা করেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে’র বাবা আজ রাতে প্রয়াত হয়েছেন। কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন ও দল এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।” এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই পুরো সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।
এর আগে মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলের পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে প্রায় নাচিয়ে ছেড়েছিল কঙ্গো। ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে বুক চিতিয়ে এগিয়ে ছিল তারা। কঙ্গোর পক্ষে প্রথমার্ধে লিড এনে দেওয়া গোলটি করেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্রায়ান চিপেঙ্গা। তবে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে দেখা যায় হ্যারি কেইন ম্যাজিক। ৭৫ মিনিটে পেনাল্টি বা দারুণ ফিনিশিংয়ে থ্রি লায়ন্সদের সমতায় ফেরানোর পর, ৮৬ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক দূরপাল্লার শটে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ইংলিশ অধিনায়ক। ফলে কঙ্গোকে বিদায় করে ইংল্যান্ড পরের রাউন্ডে গেলেও থমকে যায় কঙ্গোর রূপকথার মতো বিশ্বকাপ যাত্রা।
তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নিজের শিষ্যদের এমন বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে প্রচণ্ড গর্বিত কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। বাবার মৃত্যুর খবর জানার ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচ মূল্যায়নে তিনি বলেছিলেন, “আমি এই মুহূর্তে হতাশার চেয়ে বেশি গর্বিত। বিশ্বকাপের এই মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়াটা অবশ্যই যেকোনো দলের জন্যই চরম হতাশার। তবে গোটা টুর্নামেন্টে আমরা বিশ্বমঞ্চে ৫টি গোল করেছি। আমাদের চেয়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরে থাকা পরাশক্তি দলগুলোর বিরুদ্ধে সমানতালে খেলে আমরা মাঠে ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছি, এটাই আমাদের প্রাপ্তি।”
|