শুধু মেসির সঙ্গেই কেইনের তুলনা হয়, বললেন গর্ডন
স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে এক চরম হারের শঙ্কা জেঁকে বসছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড শিবিরে। মাঠের লড়াইয়ে আফ্রিকান পরাশক্তি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল থ্রি লায়ন্সরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাকে বাস্তবে রূপ নিতে দেননি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে এক রোমাঞ্চকর ও রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকার।
কঙ্গো বধের এই মহাকাব্যে কেইন যদি হন মূল নায়ক, তবে পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন অ্যান্থনি গর্ডন। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে সতীর্থ কেইনের করা দুটি গোলের পেছনেই নিখুঁত অ্যাসিস্ট বা জোগান দিয়েছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে এমন শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর নিজের অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করতে বিন্দুমাত্র কৃপণতা দেখাননি গর্ডন। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মতে, বর্তমানে কেইন যেভাবে একের পর এক ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছেন, তার তুলনা শুধু আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির সঙ্গেই হতে পারে।
কেইনের বন্দনা করে গর্ডন গণমাধ্যমকে বলেন, “হ্যারি কেইনের মতো একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের সঙ্গে একই দলে থাকতে পারাটা সত্যিই দারুণ সৌভাগ্যের ব্যাপার। বিশ্ব ফুটবলের একদম চূড়ায় থাকা একজনকে এত কাছ থেকে পারফর্ম করতে দেখাটা অন্যরকম এক রোমাঞ্চ দেয়। সে চলতি বছর বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দলের হয়ে এমন এক অতিমানবীয় মরসুম কাটাচ্ছে, যা অতীতে কেবল লিওনেল মেসিই করে দেখাতে পেরেছে। মেসি তো সর্বকালের সেরা ফুটবলার (জিওএটি)। হ্যারির পারফরম্যান্স মেসির সমকক্ষ হওয়া মানেই স্পষ্ট বোঝা যায় সে কতটা উঁচুমাপের ও বিশ্বমানের ফুটবল খেলছেন।”
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে গর্ডনের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে কেইনের করা দ্বিতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো। ডি-বক্সের মাঝখান থেকে একটু ডান দিকে সরে গিয়ে চোখের পলকে এক জোরালো ও নিখুঁত কোনাকুনি শট নেন কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই বল জালে জড়িয়ে যায়।
অধিনায়কের সেই জাদুকরী গোল নিয়ে গর্ডন আরও বলেন, “শটটা নেওয়ার ঠিক মুহূর্তেই আমি শতভাগ জানতাম এটা গোল হতে যাচ্ছে। তাই বল জালে জড়ানোর আগেই আমি আগেভাগে উদযাপন শুরু করে দিয়েছিলাম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেকোনো ভালো খেলোয়াড় একটা ম্যাচ বা একটা সুন্দর গোল করতে পারে, বলকে পোস্টের একেবারে কোনায় পাঠাতে পারে; কিন্তু কেইন যেভাবে দিনের পর দিন, ম্যাচের পর ম্যাচ একই ধারাবাহিকতায় এটা করে যাচ্ছে— সেটাই হলো আসল ক্লাস এবং এটাই তাকে অনন্য করে তুলেছে।”
|