অতিরিক্ত বাস ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল ও জরিমানার হুশিয়ারি সড়ক মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর: সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সার চেয়ে এক পয়সাও বেশি ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীবাহী পরিবহনের রুট পারমিট স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে আইন অনুযায়ী আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি পরবর্তীতে ওই পরিবহন আর কোনো রুট পারমিট পাবে না।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সড়ক মন্ত্রী বলেন, “প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালার হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি এক পয়সা বৃদ্ধি পায়। সেই হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কারণে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়াই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে যাত্রীদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে যৌক্তিক হারের চেয়েও কম, অর্থাৎ কিলোমিটারপ্রতি মাত্র ১৭ পয়সা বাড়াতে সমর্থ হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “নির্ধারিত ১৭ পয়সার চেয়ে এক পয়সাও অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো বা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। কঠোর মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই সরকারি নির্দেশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।”
এর আগে একই দিন সকালে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বাস ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। নতুন এই পুনঃনির্ধারিত হার অনুযায়ী, এখন থেকে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা। আর রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার ভেতরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া দুই টাকা ৭০ পয়সা কার্যকর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের ভাড়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক মন্ত্রী জানান, ট্রেন ও লঞ্চের ভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী পরশু বৃহস্পতিবার একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
রেলের ভাড়া প্রসঙ্গে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে ট্রেনের ভাড়া যেন কোনোভাবেই না বাড়ে, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।” সরকারের এই কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গোনার হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।