রোগীদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগে রামেক থেকে ৭ দালাল আটক ও দণ্ড
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা এবং দালালি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের সাত সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)-এর একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে এই সাজা প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জন হলেন—সুজন পলান, মো. সানি, বাবু দাশ, আহমদ আলী, মোসা. সিমা, তৌহিদা তানজিম ও মোছা. রিনা পারভিন।
এসআরবি-৫ জানায়, বুধবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবির সদস্যরা। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্ন কৌশলে প্রভাবিত করে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই সাতজন। দালালি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার সাংবাদিকদের জানান, “রাজশাহী মেডিকেল কলেজে উত্তরবঙ্গসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ ও গরিব রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। কিছু অসাধু চক্র হাসপাতালে অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করে এবং অসহায় রোগীদের জিম্মি করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে সর্বস্বান্ত করছে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল যে, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য আনা সমস্ত টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আজকের অভিযানে হাসপাতালের নির্দেশনা অমান্য করে দালালি করায় সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
রাজশাহী এসআরবি-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুরুল কবির পিয়াল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি, প্রতারণা এবং অনৈতিক উপায়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়ে আসছিলাম। তারই ভিত্তিতে আজ হাসপাতালে এই বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”